১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি স্থানীয় জনগণের শিক্ষাগত উন্নয়নের ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়। তৎকালীন সময়ে এলাকায় উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সীমিত ছিল এবং যুব সমাজ শিক্ষার আলো থেকে অনেকটাই বঞ্চিত ছিল। এই প্রেক্ষাপটে জনাব খন্দকার রেজা-উন-নবী সাহেব সুদূরপ্রসারী দৃষ্টি ও মানবকল্যাণে নিবেদিত মনোভাব থেকে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তিনি শুধুমাত্র একজন শিক্ষাবিদই ছিলেন না, বরং একজন দূরদর্শী সমাজসেবক, যিনি বিশ্বাস করতেন যে শিক্ষার মাধ্যমেই সমাজের দারিদ্র্য, অজ্ঞতা ও পশ্চাৎপদতা দূর করা সম্ভব। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি এলাকার মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করেন এবং এক সময় এই মহৎ উদ্যোগে সর্বস্তরের জনগণ আর্থিক, মানসিক ও শ্রম দিয়ে সহযোগিতা করেন। তৎকালীন সময়ে অথ্যাৎ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে আরও দুই একজন শিক্ষক শিক্ষকের কথা না বললেই নয় তাহারা হলেন মরুহম মাওলানা মোঃ সিরাজ উদ্দিন গাজী ও অত্র এলাকার একজন শিক্ষক তিনি হলে মোঃ আবু তাহের যাকে এলাকার সকলেই তাহের মাষ্টার নামে চিনত। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে অত্র এলাকার অনেকেই অনেকভাবে সাহায্য করেছেন যা এই সামান্য লেখা দিয়ে তাদের অবদান বর্ণনা করা সম্ভব নয়।
কিন্তু ইতিহাসের এক করুণ অধ্যায়ে, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে তিনি শহিদ হন। তাঁর এই আত্মত্যাগ শুধু একটি প্রাণ হারানো নয়, বরং এ অঞ্চলের শিক্ষা আন্দোলনের জন্য এক বিশাল ক্ষতি। শহীদ রেজা-উন-নবীর স্মৃতি আজও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা ও গৌরবের সাথে উচ্চারিত হয়। বিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর অবদান আজও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন একাধিক গুণী ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাবিদ। তাঁদের প্রত্যেকের অবদান বিদ্যালয়কে এক ধাপ থেকে আরেক ধাপে উন্নত করতে সহায়তা করেছে। শৃঙ্খলা, পাঠদানের মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সহশিক্ষা কার্যক্রম বিস্তারে তাঁদের প্রচেষ্টা বিদ্যালয়কে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা কালীন হইতে অদ্যাবধি যে সকল শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব পালন করিয়াছেন তাহারা হইলেন- খন্দকার রেজা-উন-নবী প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক এরপর যে নাম গুলো যথাক্রমে আসবে তাহারা হইলেন জনাব মোঃ আব্দুল মতিন খাঁন, মোঃ মহসীন আলী, মোঃ শাহজাহান আলী ও বর্তমানে চলমান দায়িত্বে যিনি রহিয়াছেন তিনি হলেন জনাব আব্বাসী রোজিনা ফেরদৌস।
বর্তমানে বিদ্যালয়ের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জনাব আব্বাসি রোজিনা ফেরদৌস। একজন অভিজ্ঞ শিক্ষিকা ও দক্ষ প্রশাসক হিসেবে তিনি আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সাথে বিদ্যালয়কে সম্পৃক্ত করতে এবং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের নৈতিক, মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি-নির্ভর শিক্ষা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং খেলাধুলার ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রতিদিন নিজের সময়, শ্রম ও মেধা উৎসর্গ করে বিদ্যালয়টিকে এমন এক শিক্ষা কেন্দ্রে পরিণত করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন, যা শুধু পরীক্ষার ফলাফলের জন্য নয়, বরং আদর্শ নাগরিক তৈরির জন্যও সমাদৃত হবে।
এইভাবে ১৯৬৭ সালের এক ছোট্ট উদ্যোগ আজ একটি সুদৃঢ় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, যার ভিত্তি নির্মিত হয়েছে শহীদ প্রতিষ্ঠাতার আত্মত্যাগ, জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা এবং ধারাবাহিক নেতৃত্বের উপর। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এই বিদ্যালয় হয়ে উঠছে শিক্ষার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
